যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননে বিমান হামলা চালাল ইসরায়েল
Published: 13th, January 2025 GMT
লেবাননে গতকাল রোববার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সিরিয়া সীমান্ত বরাবর চোরাচালানের পথও আছে।
লেবাননের ইরানপন্থী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি গত ২৭ নভেম্বর কার্যকর হয়। ভঙ্গুর এই যুদ্ধবিরতিকে আরও নড়বড়ে করে তুলল ইসরায়েলের গতকালের বিমান হামলা।
ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো লেবাননের পূর্ব বালবেক অঞ্চলের জান্তা শহরের উপকণ্ঠে হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণের নাবাতিয়েহর কাছের এলাকাগুলোতেও হামলা হয়েছে।
ইসরায়েলের চালানো এসব হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষকদের কাছে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে তারা হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে আছে রকেট ছোড়ার একটি স্থান, একটি সামরিক ক্ষেত্র ও সিরিয়া-লেবানন সীমান্ত বরাবর চোরাচালানের পথ। হিজবুল্লাহর কাছে অস্ত্র পাচারের জন্য এই পথ ব্যবহার করা হয়।
আরও পড়ুনলেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতি শুরু২৭ নভেম্বর ২০২৪ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে গত নভেম্বরে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২৬ জানুয়ারি। এই সময়সীমার দুই সপ্তাহ আগে লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাল ইসরায়েল। এদিকে চুক্তি হওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।
নভেম্বরের চুক্তির শর্তে বলা হয়, হিজবুল্লাহ লেবাননের দক্ষিণে থাকা তাদের অবশিষ্ট সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলবে। সংগঠনটি তার বাহিনীকে সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে লিটানি নদীর উত্তরে সরিয়ে নেবে।
আরও পড়ুনলেবাননে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন নিয়ে হিজবুল্লাহ-ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ২৯ নভেম্বর ২০২৪.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
সম্প্রীতির উৎসবে সংঘাত কেন?
মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করিয়া সমগ্র দেশে যখন সম্প্রীতির সুর বাজিয়াছে তখন হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুরসহ কতিপয় এলাকায় সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনাবলি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। আমরা জানি, রমজানের রোজার শেষে ‘খুশির ঈদ’ উৎসব উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁহার বহুল শ্রুত সংগীতে ‘দোস্ত’ ও ‘দুশমন’ ভুলিয়া গিয়া সকলের সহিত করমর্দনের তাগিদ দিয়াছেন। কিন্তু তৎপরিবর্তে একের হস্ত অপরের উপর সক্রোধে ক্ষুব্ধ ক্রিয়া করিতেছে কেন? যেই সকল তুচ্ছ ঘটনায় এই সকল সংঘাত ঘটিয়াছে, উহাও কম উদ্বেগজনক নহে।
সমকাল অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কতিপয় ব্যক্তি বাণিজ্য উপলক্ষে ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন। কয়েক দিন পূর্বে তুচ্ছ বিষয় লইয়া তথায় তাঁহাদের মধ্যে হস্তযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঈদের ছুটিতে সকলে এলাকায় প্রত্যাবর্তন করিলে মঙ্গলবার উক্ত অঘটন লইয়া সালিশ বৈঠক চলাকালে উভয় পক্ষ লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র সহযোগে পরস্পরের উপর সমর্পিত হয়। ফলে দুই পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। একই দিবসে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রাম ও তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামে ‘আধিপত্য বিস্তার’কে কেন্দ্র করিয়া পৃথক দুই সংঘর্ষে আহত ন্যূনপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ। অন্যদিকে মঙ্গলবারই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফুটবল খেলায় বাধা প্রদানকে কেন্দ্র করিয়া দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যথায় প্রায় ২০ জন আঘাতপ্রাপ্ত হন। ৩০ মার্চ তথা চন্দ্ররজনীতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দোকানের সম্মুখে ব্যাটারিচালিত রিকশা রাখার ন্যায় তুচ্ছ বিষয় লইয়া দুই দলের মধ্যে যেই তুমুল সংঘর্ষ হইল, উহাও বিস্ময়কর।
পল্লি অঞ্চলে প্রভাবশালী পরিবার কিংবা পক্ষসমূহের আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা বহুল আলোচিত। সেই আধিপত্য বিস্তারে সংঘর্ষে সংশ্লিষ্ট হইবার ঘটনাও বিরল নহে। কিন্তু রাষ্ট্র ও সামাজিক কাঠামোতে ইতোমধ্যে বহু পরিবর্তন সাধিত হইলেও সামন্ত যুগের সেই সংঘাত-সংঘর্ষ হইতে বিশেষত পল্লি অঞ্চলসমূহ অদ্যাবধি বাহির হইতে পারে নাই। বরং রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অনেকাংশেই সেই প্রভাবশালীদের স্থান দখল করিয়াছেন। তাহাদের আশীর্বাদপুষ্ট গোষ্ঠীসমূহ তাই বিবিধ অজুহাতে প্রায়শ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। উল্লিখিত ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করিলেও হয়তো অধিকাংশ ক্ষেত্রে উহার প্রমাণ মিলিবে। কিন্তু ঈদুল ফিতরের ন্যায় সম্প্রীতির উৎসব উদযাপনকালেও যখন এহেন সংঘাত-সংঘর্ষের বিস্তার ঘটে, তখন আমাদের ললাট কুঞ্চিত না হইয়া পারে না। এহেন সংঘাত-সংঘর্ষে স্পষ্ট– ধর্মীয় বিধিবিধান তো দূরস্থান, উৎসবের মিলনাত্মক আমেজও উহাদের নিরস্ত করিতে পারিতেছে না।
আমরা জানি, ঈদ মানেই এমন এক উৎসব, যখন সকল প্রকার সামাজিক ব্যবধান-বৈষম্য অতিক্রম করিয়া মুসলমান সমাজ সমভিব্যাহারে আনন্দে মাতিয়া উঠে। এমনকি ধর্ম-বর্ণের ব্যবধানও এই সময়ে ঘুচিয়া যায়। অর্থাৎ ঈদুল ফিতর এমন এক উপলক্ষ লইয়া আসে যখন সমাজের সকল মানুষের একাট্টা হইবার অবকাশ সৃষ্টি হয়। সেই সময়ে যখন আলোচ্য সংঘর্ষের ন্যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাবলি ঘটে তখন বুঝিতে হইবে, সমাজের মধ্যে কোনো না কোনো ব্যাধি দানা বাঁধিয়াছে। ইহার সুচিকিৎসা না হইলে এই সকল উৎপাত বৃদ্ধিই পাইবে। সুলুক সন্ধান জরুরি– কেন স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমক্ষে এহেন সংঘাত-সংঘর্ষ ঘটে। হবিগঞ্জের ঘটনায় জানা গিয়াছে, উভয় পক্ষ রীতিমতো ‘অগ্রিম ঘোষণা’ দিয়া সংঘর্ষে প্রবৃত্ত হইয়াছে। ইহার অর্থ, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে এক প্রকার অবহিত করিয়াই তাহারা এহেন দুষ্কর্মে মনোনিবেশ করিয়াছে। এক্ষণে প্রশ্ন, প্রশাসন ও পুলিশ অগ্রিম ব্যবস্থা গ্রহণ করিল না কেন?