শঙ্কায় শাহিন আফ্রিদির টেস্ট ক্যারিয়ার
Published: 13th, January 2025 GMT
উইন্ডিজ সিরিজ মাথায় রেখেই ফরচুন বরিশালের হয়ে পাঁচ ম্যাচ খেলবেন বলে চুক্তি করেছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। চুক্তি মোতাবেক পাঁচ ম্যাচ খেলেই বাংলাদেশ ছেড়ে যান পাকিস্তানি এ পেসার। কিন্তু দেশে ফেরার পর তিনি দেখেন উইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজের দলে রাখেনি পিসিবি (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড)। এই বাদ পড়ার মধ্য দিয়ে তারকা এ পেসারের টেস্ট ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের সর্বশেষ ১২ টেস্টের ৮টিতেই ছিলেন না শাহিন। ২০২৪ সালের শুরু থেকে কম্বিনেশন, ফর্মের অজুহাতে বিশ্রাম বা বাদ দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট দল থেকে ৩২ টেস্টে ১১৬ উইকেট নেওয়া এ পেসারকে বাদ দেওয়া হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অজুহাতে। পাকিস্তানের নির্বাচকরা তখন বলেছিলেন, ঘরের মাঠে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাঁকে তরতাজা চান বলেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল।
অথচ সেখানে ওয়ানডে ও টি২০তে তিনি ভালো খেলেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পেস-সহায়ক কন্ডিশনে টেস্টেও তিনি ভালো করতেন বলেই পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটারের বিশ্বাস। সেখানে টেস্ট খেলতে না দিলেও শাহিনকে বাংলাদেশে বিপিএল খেলার অনুমতি দিয়েছে পিসিবি। এ সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা হচ্ছে।
উইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫ জনের দলে শাহিন জায়গা না পাওয়ায় অনেকেই অবাক হয়েছেন। কারণ কিছু দিন আগেই ২৪ বছর বয়সী এ পেসার এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলের হয়ে তিন ফরম্যাটে খেলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি মূলত উইন্ডিজ সিরিজের প্রতিই ইঙ্গিত করেছিলেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতির জন্যই তিনি এ সিরিজটা খেলতে চেয়েছিলেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিসিবির একটি সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল থেকে পাকিস্তান ছিটকে গেছে বলে উইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর খেলা হবে মুলতানের স্পিন-সহায়ক পিচে। তাই নির্বাচকরা শাহিন ও নাসিমকে এ সিরিজে রাখেননি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য এ দুই পেসারকে তরতাজা চাইছেন তারা। এত বিশ্রাম দিয়ে শাহিনকে আসলে সীমিত ওভারের ক্রিকেটার বানিয়ে ফেলছেন পাকিস্তানের নির্বাচকরা।
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানের আশা
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে চলমান আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দ্রুত শুল্কহার যৌক্তিক করার বিভিন্ন বিকল্প খুঁজে বের করবে, যা এই বিষয়টি সমাধানে অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরো লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আমাদের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আমরা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একযোগে কাজ করে আসছি। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশা করছি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ ধার্য করেন। আগে দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কের হার ছিলো গড়ে ১৫ শতাংশ। অতিরিক্ত শুল্কের কারণে দেশের রপ্তানি বাজারে বিশেষ করে পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে ২৯ শতাংশ শুল্ক। চীনা পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ শুল্ক।
এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।
ঢাকা/ইভা