দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স সমন্বয় করা হয়েছে। সমন্বিত সূচকে নতুন করে ৮৭টি কোম্পানি যুক্ত হয়েছে। আর এই সূচক থেকে বাদ পড়েছে ১৪টি কোম্পানি।

এছাড়া, ডিএসইর ব্লু-চিপ হিসেবে পরিচিত ডিএস৩০ সূচকও সমস্বয় করা হয়েছে। ডিএসই৩০ সূচকে নতুন করে ৯টি কোম্পানি যোগ হয়েছে। আর এই সূচক থেকে বাদ পড়েছে ৯টি কোম্পানি। একই সঙ্গে ডিএসইর ডিএসইএসএমই সূচকে যুক্ত হয়েছে ৩টি কোম্পানি।

সমন্বিত সূচক তিনটি ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

ডিএসইর জনসংযোগ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো.

শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সমন্বিত সূচকে যোগ হওয়া কোম্পানিগুলো হলো- এবি ব্যাংক পিএলসি, আমান কটন ফাইবারস লিমিটেড, এসিআই লিমিটেড, একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেড, অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালস লিমিটেড, এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক লিমিটেড, আমান ফিড লিমিটেড, অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া পিএলসি অর্থসূচকডট কম, বারাকা পাওয়ার লিমিটেড, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেড, বাংলাদেশ ল্যাম্পস লিমিটেড, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড অর্থসূচকডটকম, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড অর্থ সূ চক ডটকম, ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড, ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি, এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড, এস্কয়ার নিট কম্পোজিট পিএলসি, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট (এক্সিম) ব্যাংক অফ বাংলাদেশ পিএলসি, ফ্যামিলিটেক্স (বিডি) লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গোল্ডেন হারভেস্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস লিমিটেড অর্থসূচকডটকম, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি, গোল্ডেন সন লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, আইবিএন সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি পিএলসি অর্থসূচকডটকম, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ লিমিটেড, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড, আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি, আইএফএডি অটোস পিএলসি অ র্থ সূ চ ক, ইনডেক্স অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড, জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেস লিমিটেড অর্থসূচকডটকম , কেডিএস অ্যাকসেসরিজ লিমিটেড, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, কাট্টলি টেক্সটাইল লিমিটেড, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স পিএলসি, ম্যাকসনস স্পিনিং মিলস পিএলসি, মতিন স্পিনিং মিলস পিএলসি, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস লিমিটেড অর্থসূচকডটকম, মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড, এমএল ডাইং লিমিটেড, মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল লিমিটেড, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি, নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেড অর্থ সূচক ডট কম, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স পিএলসি অ র্থ সূ চ ক ডট কম, এনআরবি ব্যাংক পিএলসি, ওয়ান ব্যাংক পিএলসি, ফার্মা এইডস লিমিটেড, ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, কাসেম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, রহিম টেক্সটাইল মিলস পিএলসি, আরএকে সিরামিকস (বিডি) লিমিটেড, রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেড, রানার অটোমোবাইলস পিএলসি, সাইহাম কটন মিলস লিমিটেড, সাইহাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড অর্থসূচক ডট কম, এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি, শাশা ডেনিমস লিমিটেড, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, অর্থ সূ চক ডটকম, সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, শাহজিবাজার পাওয়ার কোং লিমিটেড, স্কয়ার টেক্সটাইলস পিএলসি, এস. এস. স্টিল লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি, সামিট পাওয়ার লিমিটেড, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, তিতাস গ্যাস ট্রান্স. অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট কোং লিমিটেড, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি অর্থ সূচকডটকম, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স লিমিটেড, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ভিএফএস থ্রেড ডাইং লিমিটেড, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি এবং ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেড।

সমন্বিত সূচক থেকে বাদ পড়া কোম্পানিগুলো হলো- আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড, বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, হাওয়া ওয়েল টেক্সটাইলস (বিডি) পিএলসি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, জুট স্পিনার্স লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ইসলামি ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড, নর্দার্ন ইসলামি ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, রেনউইক জজনেশ্বর অ্যান্ড কোং (বিডি) লিমিটেড, রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড, সূহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেড।

ডিএসই৩০ সূচকে নতুন করে যুক্ত হয়েছে- ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি, প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, কোহিনূর কেমিক্যালস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স পিএলসি, পদ্মা অয়েল কোং লিমিটেড, আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি এবং বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি।

ডিএসই৩০ সূচক থেকে বাদ পরেছে- হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, সী পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসি, জেনেক্স ইনফোসিস পিএলসি, ইসলামী ব্যাংক বিডি পিএলসি, ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড, লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড এবং সামিট পাওয়ার লিমিটেড।

অন্যদিকে ডিএসইএসএমই সূচকে যুক্ত হয়েছে- এগ্রো অর্গানিকা পিএলসি, ক্রাফটসম্যান এবং ওয়েব কোটস পিএলসি।

ঢাকা/এনটি/ইভা 

উৎস: Risingbd

এছাড়াও পড়ুন:

সম্প্রীতির উৎসবে সংঘাত কেন?

মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করিয়া সমগ্র দেশে যখন সম্প্রীতির সুর বাজিয়াছে তখন হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুরসহ কতিপয় এলাকায় সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনাবলি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। আমরা জানি, রমজানের রোজার শেষে ‘খুশির ঈদ’ উৎসব উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁহার বহুল শ্রুত সংগীতে ‘দোস্ত’ ও ‘দুশমন’ ভুলিয়া গিয়া সকলের সহিত করমর্দনের তাগিদ দিয়াছেন। কিন্তু তৎপরিবর্তে একের হস্ত অপরের উপর সক্রোধে ক্ষুব্ধ ক্রিয়া করিতেছে কেন? যেই সকল তুচ্ছ ঘটনায় এই সকল সংঘাত ঘটিয়াছে, উহাও কম উদ্বেগজনক নহে।

সমকাল অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কতিপয় ব্যক্তি বাণিজ্য উপলক্ষে ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন। কয়েক দিন পূর্বে তুচ্ছ বিষয় লইয়া তথায় তাঁহাদের মধ্যে হস্তযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঈদের ছুটিতে সকলে এলাকায় প্রত্যাবর্তন করিলে মঙ্গলবার উক্ত অঘটন লইয়া সালিশ বৈঠক চলাকালে উভয় পক্ষ লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র সহযোগে পরস্পরের উপর সমর্পিত হয়। ফলে দুই পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। একই দিবসে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রাম ও তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামে ‘আধিপত্য বিস্তার’কে কেন্দ্র করিয়া পৃথক দুই সংঘর্ষে আহত ন্যূনপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ। অন্যদিকে মঙ্গলবারই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফুটবল খেলায় বাধা প্রদানকে কেন্দ্র করিয়া দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যথায় প্রায় ২০ জন আঘাতপ্রাপ্ত হন। ৩০ মার্চ তথা চন্দ্ররজনীতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দোকানের সম্মুখে ব্যাটারিচালিত রিকশা রাখার ন্যায় তুচ্ছ বিষয় লইয়া দুই দলের মধ্যে যেই তুমুল সংঘর্ষ হইল, উহাও বিস্ময়কর।

পল্লি অঞ্চলে প্রভাবশালী পরিবার কিংবা পক্ষসমূহের আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা বহুল আলোচিত। সেই আধিপত্য বিস্তারে সংঘর্ষে সংশ্লিষ্ট হইবার ঘটনাও বিরল নহে। কিন্তু রাষ্ট্র ও সামাজিক কাঠামোতে ইতোমধ্যে বহু পরিবর্তন সাধিত হইলেও সামন্ত যুগের সেই সংঘাত-সংঘর্ষ হইতে বিশেষত পল্লি অঞ্চলসমূহ অদ্যাবধি বাহির হইতে পারে নাই। বরং রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অনেকাংশেই সেই প্রভাবশালীদের স্থান দখল করিয়াছেন। তাহাদের আশীর্বাদপুষ্ট গোষ্ঠীসমূহ তাই বিবিধ অজুহাতে প্রায়শ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। উল্লিখিত ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করিলেও হয়তো অধিকাংশ ক্ষেত্রে উহার প্রমাণ মিলিবে। কিন্তু ঈদুল ফিতরের ন্যায় সম্প্রীতির উৎসব উদযাপনকালেও যখন এহেন সংঘাত-সংঘর্ষের বিস্তার ঘটে, তখন আমাদের ললাট কুঞ্চিত না হইয়া পারে না। এহেন সংঘাত-সংঘর্ষে স্পষ্ট– ধর্মীয় বিধিবিধান তো দূরস্থান, উৎসবের মিলনাত্মক আমেজও উহাদের নিরস্ত করিতে পারিতেছে না।

আমরা জানি, ঈদ মানেই এমন এক উৎসব, যখন সকল প্রকার সামাজিক ব্যবধান-বৈষম্য অতিক্রম করিয়া মুসলমান সমাজ সমভিব্যাহারে আনন্দে মাতিয়া উঠে। এমনকি ধর্ম-বর্ণের ব্যবধানও এই সময়ে ঘুচিয়া যায়। অর্থাৎ ঈদুল ফিতর এমন এক উপলক্ষ লইয়া আসে যখন সমাজের সকল মানুষের একাট্টা হইবার অবকাশ সৃষ্টি হয়। সেই সময়ে যখন আলোচ্য সংঘর্ষের ন্যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাবলি ঘটে তখন বুঝিতে হইবে, সমাজের মধ্যে কোনো না কোনো ব্যাধি দানা বাঁধিয়াছে। ইহার সুচিকিৎসা না হইলে এই সকল উৎপাত বৃদ্ধিই পাইবে। সুলুক সন্ধান জরুরি– কেন স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমক্ষে এহেন সংঘাত-সংঘর্ষ ঘটে। হবিগঞ্জের ঘটনায় জানা গিয়াছে, উভয় পক্ষ রীতিমতো ‘অগ্রিম ঘোষণা’ দিয়া সংঘর্ষে প্রবৃত্ত হইয়াছে। ইহার অর্থ, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে এক প্রকার অবহিত করিয়াই তাহারা এহেন দুষ্কর্মে মনোনিবেশ করিয়াছে। এক্ষণে প্রশ্ন, প্রশাসন ও পুলিশ অগ্রিম ব্যবস্থা গ্রহণ করিল না কেন?

সম্পর্কিত নিবন্ধ