এবার কাচিনে জান্তার বিমান হামলা, নিহত ১৫
Published: 13th, January 2025 GMT
মিয়ানমারের কাচিন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে রাজ্যটির তানাইং শহরের একটি মার্কেটে এ হামলার ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির
রোববার এ তথ্য জানায় রাজ্যটির সশস্ত্র জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ)।
কেআইএর মুখপাত্র কর্নেল নাও বু আজ এএফপিকে বলেন, ‘শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিমান হামলার এ ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত ব্যক্তিদের সবাই বেসামরিক নাগরিক। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সোনার খনিতে কাজ করা শ্রমিক, স্থানীয় দোকানদারও রয়েছেন।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, আহত ১০ জনের মধ্যে পরে ৩ জন মারা গেছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, যেখানে হামলা হয়েছে, সেখানে একটি বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বোমার আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে আশপাশের এলাকা।
যেখানে হামলা হয়েছে, সেই এলাকা এখন কেআইএর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর সদস্য রয়েছেন প্রায় সাত হাজার। স্বায়ত্তশাসন ও কাচিনের খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণের দাবিতে কয়েক দশক ধরে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে লড়ছে তারা। রাজ্যটিতে রত্নপাথরের বড় বড় খনির পাশাপাশি খনিজ সম্পদের বিপুল মজুত রয়েছে, যার বেশির ভাগই চীনে রপ্তানি হয়।
২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখলের পর অন্যান্য রাজ্যের মতো কাচিনেও জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের তুমুল লড়াই শুরু হয়। অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত অং সান সু চির সরকার জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) নামে একটি সশস্ত্র প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তুলেছে। জান্তার অভিযোগ, এই বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ করে কেআইএ।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি পশ্চিম রাখাইন প্রদেশে জান্তাবাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হন। আহত হয়েছিলেন আরও ৫২ জন আহত হয়েছেন।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘ বলেছে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাতে ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা গত বছরের তুলনায় ১৫ লাখ বেশি। চলতি বছর দেশটিতে এই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক কার্যালয় (ওসিএইচএ) বলছে, ২০২৫ সালে দেশটির এক কোটি ৯৯ লাখ জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষের সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
যাঁরা হলে থাকতেন, টিউশনি করতেন উনারা এখন পাঁচ-ছয় কোটি টাকার গাড়িতে চড়েন
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু বলেছেন, কয়েকজন উপদেষ্টা আছেন যাঁরা ছাত্ররাজনীতি করতেন। হলে থাকতেন, মেসে থাকতেন, টিউশনি করতেন উনারা এখন পাঁচ-ছয় কোটি টাকার গাড়িতে চড়েন। আগে–পিছে আরও ৩০-৪০ কোটি টাকার গাড়ি থাকে। কয়েক দিন আগে এক নেতা গিয়েছেন তাঁর বাড়িতে। এক শর অধিক গাড়ি নিয়ে গেছেন।
তিনি আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার সাত শহীদ পরিবারের মধ্যে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উপহারসামগ্রী বিতরণের সময় এসব কথা বলেন।
বরকতউল্লা আরও বলেন, ‘উনারা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে ইফতার পার্টি করেছেন। ১৫-২০ কোটি টাকা খরচ করে দলের আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠান করেছেন। আগে তাঁরা পরতেন ৫০০ টাকার দামের পাঞ্জাবি এখন পরেন ৩০ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবি। জুতা পরেন ৫০ হাজার টাকার। হাতের ঘড়ি ৪০ হাজার টাকা। উনারা প্রশাসনের ওপর ফোর্স করেন অমুককে বদলি করতে হবে, অমুকখানে অমুককে দিতে হবে। সচিবরা বলেন তাঁরা তাঁদের ওপর ফোর্স করেন। প্রকৌশলীদের চাপ দেওয়া হয় অমুককে এ জায়গায় দিতে হবে, অমুকে এই কাজ দিতে হবে। এই যে দেশে নৈরাজ্য মব জাস্টিসের নামে মানুষের বাড়িঘরে হামলা করা হচ্ছে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে নির্বাচন ছাড়া কোনো উপায় নাই।’
বিএনপি নেতা বরকতউল্লা বলেন, ‘আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত যাঁরা করতে চান, তাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের সপক্ষে নয়।’
তিনি বলেন, ‘যাঁরা বাংলাদেশের ৭১ কে অস্বীকার করেন, যাঁরা ৪৭–এর পূর্বে ফিরে যেতে চান, যাঁরা ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তকে অস্বীকার করতে চান, যাঁরা এই মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করেন, মুক্তিযুদ্ধকে পাশ কাটিয়ে যাঁরা কথা বলেন, তাঁরা এই দেশের জনগণের সপক্ষে রাজনীতি করেন বলে আমরা মনে করি না। যাঁরা ৭১ কে অস্বীকার করেন, তাঁদের বাংলাদেশে ভোট চাওয়ার কোনো অধিকার নেই। ভোটে দাঁড়ানোর কোনো অধিকার নেই, রাজনীতি করারও কোনো অধিকার নেই।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান গত ১৭ বছর লন্ডনে আছেন, বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি দলের হাল ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং অন্য সব দলকে একত্র করে বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কার ও রাষ্ট্র মেরামতের যে রূপরেখা দিয়েছেন, সেই রূপরেখার মধ্য দিয়ে আগামী দিনে বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত হবে।’
বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী শহরের একটি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাখ্যা চন্দ্র দাস, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামীমা বরকত প্রমুখ। আলোচনা শেষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।