তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় সাংবাদিক কে. এম বাচ্চু ও তাঁর বাবা মো. ইউনুচ খলিফাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাত সাড়ে ৮টায় কুয়াকাটা পৌর শহরের চৌরাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। 

আহত সাংবাদিক ও তাঁর বাবাকে প্রথমে কুয়াকাটা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কুয়াকাটা পৌর শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি মো.

জসিম মৃধা, শহীদ, কাদের ও পৌর কৃষক দলের সভাপতি আলী খন্দকারের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ওই সাংবাদিক ও স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, সাংবাদিক কে. এম বাচ্চুর বাবা ইউনুচ খলিফা রাত ৮টায় চৌরাস্তায় বসে আলাপচারিতা করছিলেন। এ সময় ওই এলাকার এক বাদাম বিক্রেতার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায় পৌর কৃষক দলের সভাপতি আলী খন্দকার। ওই বাদাম বিক্রেতাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন তিনি। পরে ইউনুচ খলিফা প্রতিবাদ করলে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আলী খন্দকার। বাবাকে মারধরের কথা শুনে কিছুক্ষন পর সাংবাদিক বাচ্চু সেখানে পৌঁছলে পৌর শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি জসিম মৃধা ও আলী খন্দকারের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন লাঠিসোটা নিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এক পর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা ওই সাংবাদিক ও তার বাবাকে কুয়াকাটা হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

প্রত্যক্ষদর্শী মো. রাসেল জানান, বাচ্চুকে ৩/৪ জন মিলে মারধর করছে এমন অবস্থায় আমি তাঁকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। তবে আমি না গেলে ওরে মেরে ফেলত শ্রমিক দল ও কৃষক দলের কর্মীরা।

এ ব্যাপারে কুয়াকাটা পৌর শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি জসিম মৃধা বলেন, আমি ওখানে গিয়ে দেখি বাচ্চু খলিফাকে মারধর করা হচ্ছে। পরে আমি মারধর থামাতে গেলে বাচ্চু নিজেই আমার ওপর হামলা চালায়। আমি বর্তমানে কুয়াকাটা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছি।

তবে, কুয়াকাটা পৌর কৃষক দলের সভাপতি আলী খন্দকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মহিপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, কুয়াকাটা এখন শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে। 

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতেই ‘স্বাধীনতা কনসার্ট’–এর আয়োজন: সুলতান সালাউদ্দিন

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন (টুকু) বলেছেন, দেশীয় শিল্পীদের মূল্যায়ন করতেই ‘স্বাধীনতা কনসার্ট’–এর আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, বর্তমানে দেশীয় শিল্পীদের মূল্যায়ন না করার সংস্কৃতি চলছে। তাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চিন্তা থেকেই দেশীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় স্বাধীনতা কনসার্টের আয়োজন করেছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’।

সুলতান সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে রাজধানী ঢাকাসহ চার বিভাগীয় শহরে ১১ এপ্রিল এই ‘স্বাধীনতা কনসার্ট’ অনুষ্ঠিত হবে।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে কনসার্টের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সুলতান সালাহউদ্দিন এ কথা বলেন।

সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে জাতীয় দিবসগুলোতে হিন্দি ভাষাভাষী শিল্পীদের এনে বাংলাদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করানো হতো। ইদানীং পাকিস্তানি শিল্পীদের বাংলাদেশে আনা হচ্ছে বিভিন্ন পৃষ্ঠপোষকতায়। আমরা মনে করি, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এ বাংলাদেশ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বাংলাদেশ, ২ লাখ মা–বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এ বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশকেই আমরা বুকে ধারণ করতে চাই।’

বিএনপির প্রচার সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশে অসংখ্য মেধাবী সাংস্কৃতিক ব্যক্তি রয়েছেন। তাঁরা তাঁদের পারফরম্যান্স ইতিমধ্যে বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে অনেককে পারফরম্যান্স করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে যাঁরা আছেন, তাঁরাও পারফরম্যান্স করার মতো পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারেননি। আমরা মনে করি, বাংলাদেশকে আমাদের জাগ্রত করতে হবে, বাংলাদেশকে আমাদের তুলে ধরতে হবে।’

সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, ‘সবাইকে নিয়েই এ দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব—এ চিন্তা থেকে দেশের শিল্পীদের ব্র্যান্ডিং করার জন্য আমাদের এ আয়োজন। তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে এখানে (মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ) সবার আগে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কনসার্ট করেছিলাম, যেটিকে সবাই সাধুবাদ জানিয়েছে। সেদিনই আমরা স্বাধীনতা দিবসে আরেকটি কনসার্টের ঘোষণা দিই। সে চিন্তা থেকে ১১ এপ্রিল স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়াও এ কনসার্ট চারটি বিভাগে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে অনুষ্ঠিত হবে।’

সুলতান সালাউদ্দিন আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্পীদের যে প্রতিভা আছে, সেটি মানুষের কাছে তুলে ধরতে চাই এবং আমাদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টি নিয়ে আমরা পথ চলতে চাই। নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সেটি তুলে ধরতে চাই এবং তাদের মনের মধ্যে সেটি ধারণ করার জন্য আমাদের এই প্রচেষ্টা।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশিদ, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’–এর সদস্য জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

সম্পর্কিত নিবন্ধ