বায়িনদিরের বীরত্বে ১০ জনের ইউনাইটেড বিদায় দিল আর্সেনালকে
Published: 12th, January 2025 GMT
আর্সেনাল ১ (৩): (৫) ১ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
আলতায় বায়িনদির! ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অবিশ্বাস্য জয়ের নায়কের নাম। বাড়ি তুরস্কে। ২০২৩ সালে ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর এ মৌসুমে লিগ কাপে তিনটি ম্যাচ খেলা ছাড়া ম্যানচেস্টারের ক্লাবটির জার্সি গাঁয়ে ওঠেনি তাঁর। সেই বায়িনদির এফএ কাপে প্রথমবার খেলতে নেমেই নায়ক হলেন ইউনাইটেডে। নির্ধারিত সময়ে একটি ও টাইব্রেকারে আরেকটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে আর্সেনালের বিপক্ষে ১০ জনের ইউনাইটেডকে জেতালেন বায়িনদির। টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে জিতেছে ইউনাইটেড।
এমিরেটসে রোববারের ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে অমীমাংসিত ছিল ১-১ গোলে। অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে আর্সেনালে কাই হাভার্টজের নেওয়া দ্বিতীয় শটটি বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন বায়িনদির। ইউনাইটেড টাইব্রেকারে পাঁচ শটেই গোল পেয়েছে। ইউশুয়া জির্কজি পঞ্চম শটটি জালে প্রবেশ করতেই নিশ্চিত হয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা উঠে গেছে চতুর্থ রাউন্ডে। আর্সেনালের পঞ্চম শট নেওয়ার আর দরকার পড়েনি।
বায়িনদির নির্ধারিত সময়ে পেনাল্টি ঠেকিয়েছিলেন ৭২ মিনিটে। মার্টিন ওডেগার্ডের নেওয়া শটটিও বাঁয়ে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন। পেনাল্টি বক্সে ফাউলের শিকার হয়েছিলেন কাই হাভার্টজ। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে হাতাহাতিতে জড়ায় দুই দলের কিছু খেলোয়াড়।
এই পেনাল্টির ১০ মিনিট আগেই ১০ জনের দল হয়ে যায় ইউনাইটেড। মিকেল মেরিনোকে স্লাইডিং ট্যাকল করতে গিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মার্চিং অর্ডার পান দালোত।
১০ মিনিট আগে ব্রুনো ফার্নান্দেজের গোলে এগিয়ে যাওয়া ইউনাইটেড তাতে একটু খেই হারায়। দালোত বিদায় নেওয়ার পরের মিনিটেই সমতা ফেরায় আর্সেনাল। গ্যাব্রিয়েলে মার্তিনেল্লির ক্রসে ভলি করে গোল করেন আরেক গ্যাব্রিয়েল, মাগালাইস।
এরপরের গল্পটা ইউনাইটেডের প্রতিরোধ ও পাল্টা আক্রমণে মাঝেমধ্যে আর্সেনাল ডিফেন্সকে তটস্থ রাখার। আর বায়িনদিরের নায়ক হওয়ার।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
বাংলাদেশি ভেবে বিএসএফের গুলি, ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমন্ডল সীমান্তের ৯২৯ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের ৩ নম্বর সাব পিলারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে ভারতের ভূখণ্ডে মরাকুটি (ভোরাম পয়োস্তি) এলাকায় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ দেখেন বাংলাদেশিরা। ৪ ঘণ্টা ধরে সেখানে পড়েছিল ভারতীয় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ। পরে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ নিয়ে ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নিহত যুবকের নাম জাহানুর আলম (২৪)। তিনি ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার গিদালদহ এলাকার মরাকুটি ভোরাম পয়োস্তি গ্রামের কবিদুল ইসলামের ছেলে।
সীমান্তবাসীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসাসহ গরু পারাপারে জড়িত ছিলেন তিনি।
সীমান্তে বসবাসকারী সায়েদ আলী ও হয়রত আলী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে উভয় দেশের একদল চোরাকারবারী ওই সীমান্ত দিয়ে গাঁজা ও গরু নিয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করে। এ সময় ভারতীয় ভারবান্দা ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে ভারতীয় চোরাকারবারী জাহানুর গুলিবৃদ্ধ হয়। সেখানে পড়ে থাকা অবস্থায় অনেকবার চিৎকার করলেও সহযোগীরা তাকে উদ্ধার না করায় ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। গুলির শব্দ পেয়ে বাকি চোরাকারবারীরা পালিয়ে যান।
এ দিকে নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির পক্ষে গোরকমন্ডল ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফিরোজ এবং বিএসএফের পক্ষে ৩ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের অধীন ভারবান্দা গিদালদহ ক্যাম্পের কমান্ডার গিরিশ চন্দ্র নেতৃত্ব দেন। পতাকা বৈঠকের পর সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ নিয়ে যায় বিএসএফ।
এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, বিএসএফের কাছে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়- ভোরের দিকে একদল ভারতীয় নাগরিক টহলরত বিএসএফ পোস্টে হামলা চালায়। তখন আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে এক ভারতীয় হামলাকারী নিহত হয়। বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীন। এর সঙ্গে বাংলাদেশ বা বিজিবির কোনও সমৃক্ততা নেই। তারপরও সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।