ঢাবি ছাত্রীদের ‘ভিসির বাংলায় ঠাঁয় চাই’ কর্মসূচি
Published: 12th, January 2025 GMT
আবাসন সংকট নিরসনে প্রয়োজনে হোস্টেল ভাড়া করার দাবি আদায়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নারী শিক্ষার্থীরা।
দাবি না মানা পর্যন্ত আগামী মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় ছাত্রীদের আবাসন সংকট সমাধানে উপাচার্যের বাসভবনে ‘ভিসির বাংলায় ঠাঁয় চাই’ শীর্ষক কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) বিকাল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তারা।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ইমু লিখিত বক্তব্যে বলেন, “নতুন হল তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রীদের অস্থায়ী আবাসন হিসেবে ভবন ভাড়া করে হোস্টেল তৈরি করা, গণরুম বিলুপ্তিসহ সাত দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে গত ২ জানুয়ারি মতবিনিময় সভা হয়। এর মাধ্যমে বেশকিছু প্রাপ্তি হয়েছে।”
তিনি বলেন, “রোকেয়া হল ছাড়া বাকি চারটি ছাত্রী হলে অনাবাসিক ছাত্রী প্রবেশের অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, আর্থিকভাবে দুর্বল অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের একাংশকে মাসিক বৃত্তি দেওয়ার কার্যক্রম দ্রুত শুরু হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, নতুন হল নির্মাণের স্থান নির্ধারণে 'রিভিউ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ডাকসু নির্বাচিত প্রতিনিধি ব্যতীত হল নির্মাণ রিভিউ কমিটি বা অন্য কোন কমিটিতে কোন শিক্ষার্থী-প্রতিনিধি রাখা হবে না, সবগুলো হল সংস্কার হবে, শামসুন্নাহার হলে নতুন দোকান তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “তবে বেশকিছু অমীমাংসিত দাবি রয়েছে। সেগুলো হলো- ভবন ভাড়া করে ছাত্রীদের জন্য অস্থায়ী আবাসন হিসেবে হোস্টেল চালু করা, ছাত্রী হলগুলোতে বর্ধিত ভবন নির্মাণসহ নতুন দুইটি হল স্থাপন বাবদ আর্থিক পরিকল্পনা ঘোষণা করা ইত্যাদি।”
ইমু বলেন, “তবে নির্মাণকালীনে দীর্ঘ সময়ের জনা ছাত্রীদের হোস্টেলের আবেদন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ি আইনি বৈধতা নেই উল্লেখ করে প্রশাসনিকভাবে অপারগতা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এমন কোন বিধান আমাদের চোখে পড়েনি। বরং অধ্যাদেশ ১৯৭৩ এর ২৪ (ডি) এবং ৪৫(১) ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন হোস্টেল তৈরি কিংবা বাতিলের এখতিয়ার একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের রয়েছে। ফলে, বিশ্ববিদ্যালয় চাইলেই সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারে।
ইমু আরও বলেন, “গণরুম বিলুপ্তির দাবি পুরোপুরি উপেক্ষা করে যাওয়া হয়েছে, নতুন হল মূল ক্যাম্পাসে নির্মাণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি, বৃত্তি প্রদানের বিষয়ে বিস্তারিত জানানোসহ কোনো বিজ্ঞত্তি প্রকাশ করা হয়নি, শতভাগ আবাসিকীকরণের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি এবং ডাবলিং প্রখা বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা জানানো হয়নি।”
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিয়া ফাহমিন, মাইশা তাসনিম মৃত্তিকা প্রমুখ।
ঢাকা/সৌরভ/মেহেদী
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজনের মুত্যু
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ইয়াসিন আলী (২৪) ও মাহির তাজয়ার তাজ (১৫) নামে দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নবিননগরে একটি ও গত ২৭ মার্চ চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠের সামনে অপর দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মাহির তাজওয়ার তাজ আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া গ্রামের ইউসুফ আলী মাস্টারের ছেলে ও ইয়াসিন আলী চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার তালতলা গ্রামের দিদার আলীর ছেলে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদুর রহমান, জানান, অসাবধানতা ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল ড্রাইভ করতে যেয়ে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নবিননগরে দুটি মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাহির তাজওয়ার তাজ গুরুতর আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। রাতে তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার পথে রাত ৮ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে মাহির মারা যায়।
অন্যদিকে গত ২৭ মার্চ চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠের সামনে ইয়াসিন আলী মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগামী ট্রাকের নিচে পড়ে যায়। এসময় তার দুই পা ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে গুঁড়িয়ে যায়। তাকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৬ দিনের মাথায় বুধবার (২ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ইয়াসিন মারা যায়।
দুটি দুর্ঘটনায় কোনো পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের না করায় সুরতহাল রিপোর্ট শেষে স্ব স্ব পরিবারের কাছে তাদের মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঢাকা/মামুন/টিপু