আপনি চুলের জেলের পেছনে খরচ কমান, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরকে মেল গিবসন
Published: 12th, January 2025 GMT
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ছড়িয়েপড়া ভয়াবহ দাবানলে একরের পর একর ভূমির সব পুড়ে গেছে। অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি পুড়েছে; সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রভাবশালী অনেক হলিউড তারকারও বাড়ি পুড়ে ছাই হয়েছে।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার পুনরুদ্ধারের কাজ দীর্ঘ। তার আগে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন ক্রিস্টোফার নিউসম এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস সমালোচনার মুখে পড়েছেন। দাবানলের মতো দুর্যোগের আগের মাসের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের তহবিল এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। তবে হলিউডের দাপুটে অভিনেতা মেল গিবসনের মন্তব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
দাবানলে অভিনেতা মেল গিবসনের বাড়িও পুড়েছে। মালিবুতে অবস্থিত তার বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। একটি পডকাস্টে হাজির হয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের কড়া সমালোচনা করেন ‘অ্যাপোক্যালিপ্টো’খ্যাত এই পরিচালক। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন ক্রিস্টোফার নিউসমকে উদ্দেশ্য করে মেল গিবসন বলেন— “আপনি চুলের জেলের পেছনে খরচ কম করেন।”
গুরুতর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে মেল গিবসন বলেন, “এটি (দাবানল) কি ইচ্ছাকৃতভাবে করা? যদিও এটি ভাবা এক প্রকার পাগলামি। কিন্তু কেউ ভাবতে শুরু করেছে যে, মনে কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা।” সূত্র: ফক্স নিউজ।
উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
দেশে বছরে দেড় লাখের বেশি শিশুর মৃত্যু
বছরে দেড় লাখের বেশি শিশুর মৃত্যুতে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ গুরুতর চ্যালেঞ্জে পড়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ এবং ডব্লিউএইচও। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইউনাইটেড নেশন্স ইন্টার-এজেন্সি গ্রুপ ফর চাইল্ড মরটালিটি এস্টিমেশনের ২০২৪ সালের দুটি প্রতিবেদনের একটিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ১ লাখের বেশি শিশু তাদের পঞ্চম জন্মদিন পূর্ণ করার আগে মারা গেছে। তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়েছে আবার বয়স ২৮ দিনের মধ্যে। দ্বিতীয় প্রতিবেদনে ওই বছর ৬৩ হাজারের বেশি মৃত শিশু প্রসবের তথ্য রয়েছে। প্রতিবেদন দুটির হিসাবে প্রতি ৪১ শিশু জন্মের ক্ষেত্রে একটি মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।
ইউনিসেফ এবং ডব্লিউএইচও বলেছে, ১৯৯০ সাল থেকে মা ও শিশু স্বাস্থ্যে বাংলাদেশের অর্জন প্রশংসনীয়। তবে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত যত্নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মা ও শিশুর প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমাতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার তাগিদ দিয়েছে তারা। এসডিজির লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশকে প্রতিবছর বাড়তি ২৮ হাজার নবজাতককে বাঁচাতে হবে। এ জন্য প্রসূতি ও নবজাতকের উন্নত যত্ন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ সেবাদাতার উপস্থিতিতে প্রসব, গর্ভধারণ, প্রসবকালীন ও প্রসবোত্তর সেবার মান উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থা দুটি।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের ওআইসি রিপ্রেজেন্টেটিভস ফারুক আদ্রিয়ান দুমুন বলেন, ‘অপরিণত জন্ম, সেপসিস ও নিউমোনিয়া সংক্রমণের মতো প্রসব জটিলতায় বাংলাদেশে প্রতিবছর এক লাখের বেশি নবজাতক মারা যায়। অথচ এসব জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগে অগ্রাধিকার, সব পর্যায়ে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী বিশেষ করে ধাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও সঠিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা গেলে লাখ লাখ শিশু ও মাকে বাঁচানো সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে ইউনিসেফ প্রসূতি ও শিশুর মৃত্যুরোধে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বাংলাদেশে ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহামেদ বলেন, বিগত দশকগুলোতে প্রসূতি ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। শিশু মৃত্যু ও মৃত শিশুর জন্ম প্রতিরোধে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।