চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীর ফুলবাড়িয়া এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল থেকে চাকরি ফেরত পাওয়ার রায় পেলেও তাঁদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হচ্ছে না।

আজ রোববার সকালে চাকরিচ্যুত অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য এ কর্মসূচি পালন করেন।

গরহাজিরার কারণে চাকরি চলে গেছে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো.

জাকারিয়ার। অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে কনস্টেবল থেকে এসআই পদে কর্মরত অন্তত ২৬১ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাঁরা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল থেকে চাকরি পুনর্বহালের রায় পেয়েছেন, কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর তাঁদের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে। সে কারণে তাঁরা চাকরিতে ফিরতে পারছেন না।

জাকারিয়া বলেন, ‘হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে ১৪ বছর সময় লাগবে। এত দিন চাকরি ছাড়া আমরা কীভাবে সংসার চালাব?’ তাই দ্রুত চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ঝিনাইদহ জেলায় চাকরি করার সময় মাদক উদ্ধারের একটি অভিযানে গিয়ে র‍্যাবের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে মারামারির ঘটনায় চাকরিচ্যুত করা হয় সোহেল আহমেদ নামের এক কনস্টেবলকে। তিনি বলেন, ওই অভিযানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। ওই ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কারও চাকরি যায়নি। কনস্টেবল বলে তৎকালীন পুলিশ সুপার তাঁকে চাকরিচ্যুত করেছেন।

সোহেল বলেন, ‘আমরা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল থেকে চাকরি ফিরে পাওয়ার রায় পেয়েছি, কিন্তু চাকরিতে যোগ দিতে পারছি না।’

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

নীলফামারীতে পুলিশ-সেনা সদস্যদের যৌথ টহল অব্যাহত

নীলফামারীতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ঈদের পরও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং পুলিশের যৌথ টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) ঈদের পরের দিনে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নীলফামারী সদরের উত্তরা ইপিজেড, সৈয়দপুর বাসটার্মিনাল, শুটকির মোড় ও পাঁচ মাথা মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি, হেলমেট ও লাইসেন্সবিহিন মোটরসাইকেল আরোহী, নছিমন, ভটভটি, প্রাইভেটকার ও বাসে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে।

নীলফামারীতে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফাহিম এহসান ও সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ওমর ফারুক এবং সৈয়দপুরে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার মোস্তফা মজুমদারের নেতৃত্বে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। 

আরো পড়ুন:

প্রধান উপদেষ্টাকে ঈদ-নিরাপত্তার বিষয়ে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে: তারেক রহমান

এ সময় নীলফামারীর ইপিজেড পয়েন্টে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) প্রশান্ত রায় ও সৈয়দপুর পয়েন্টে এসআই সুজন উপস্থিত ছিলেন।  

সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফাহিম এহসান জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নীলফামারীতে জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা সদস্যরা ঈদের পরও নিরলসভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। যৌথ বাহিনীর চেকপোস্ট পরিচালনার মুল উদ্দেশ্য হলো সচেতনতা বৃদ্ধিসহ মানুষ যেন নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে এবং দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতা সীমিত রাখা যায়।   

সেনাবাহিনী সুত্র জানায়, গত ২ মার্চ থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিভিন্ন ধরনের চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ পর্যন্ত দুই উপজেলায় ২৫২টি মামলায় ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এরমধ্যে নীলফামারীতে ১৪২টি মামলায় ৪ লাখ ৭০ হাজার ৬০০ টাকা এবং সৈয়দপুরে ১১০টি মামলায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। 

সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার মোস্তফা মজুমদার জানান, কার্যক্রমের ফলে জনগণের মাঝে আরো তৎপরতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চেকপোস্টের মাধ্যমে যানবাহনে লাইসেন্স না থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া এবং হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল আরোহীদের সতর্ক করা হয়। 

এছাড়াও বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়। 

ঢাকা/সিথুন/বকুল

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • আসামি ছিনিয়ে নিতে পুলিশের উপর হামলা, গ্রেপ্তার ১৬
  • নীলফামারীতে পুলিশ-সেনা সদস্যদের যৌথ টহল অব্যাহত