প্রথম আলো:

অভ্যুত্থানের একটা বড় স্পিরিট অন্তর্ভুক্তিমূলকতা, বহুত্ববাদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু আমরা দেখছি, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক স্বরগুলো অনেক ক্ষেত্রেই বাদ পড়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা আক্রান্তও হচ্ছে। অভ্যুত্থানের স্পিরিটের সঙ্গে এটা কি সাংঘর্ষিক নয়?

জোনায়েদ সাকি: জুলাই অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, তার সঙ্গে এগুলো সরাসরি সাংঘর্ষিক। প্রতিটি বড় আন্দোলনের ক্ষেত্রে দুই ধরনের প্রবণতা থাকে। একটা প্রবণতা থাকে গণতান্ত্রিক, অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে ইতিবাচক একটা দিকে যাওয়া। অন্যদিকে আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে যার বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হয়েছিল, যেসব প্রবণতার বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হয়েছিল, বিপরীত পক্ষ হিসেবে কেউ কেউ সেই চর্চাগুলোকেই সামনে নিয়ে আসে। অভ্যুত্থান একটা গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষাকে সামনে এনেছে। মানুষ আশা করছে এমন একটা রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা পাবে যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, জীবনচর্চা, লিঙ্গীয় ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেকে নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে এবং রাষ্ট্র তার নাগরিক অধিকার ও মর্যাদার গ্যারান্টি দেবে।

অন্যদিকে আমরা দেখছি, নানা ধরনের উগ্রতার একটা প্রকাশ ঘটছে। অভ্যুত্থান–পরবর্তী যে রাজনৈতিক বাস্তবতা, সেটাকে কাজে লাগিয়ে একটা গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। মাজারের ওপর হামলা হচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়, পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিগত সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হচ্ছে, নারীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে, এটা সত্যি। একই সঙ্গে আবার এ ঘটনাগুলোকে সংখ্যায় অনেক দেখিয়ে, অনেক রং চড়িয়ে, সারা দুনিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে। এখানে আমরা পতিত ফ্যাস্টিস্টদের ভূমিকা দেখছি; আবার ভারতের মিডিয়ার একাংশ ও তাদের শাসক দলের দিক থেকেও এ প্রচারণা দেখছি।

প্রথম আলো:

কিন্তু এ ধরনের হামলায় বিচার ও প্রতিকার হতে দেখি না।

জোনায়েদ সাকি: আমরা বলেছি, আমরা অসত্যের বিরুদ্ধে সত্য নিয়ে লড়াই করতে চাই। সে কারণেই প্রতিটা ঘটনার যথাযথ তদন্ত হওয়া দরকার। যারা এর জন্য দায়ী, তাদেরকে জবাবদিহি ও বিচারের আওতায় আনা দরকার। যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে একটা ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রকেও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

আগেও আমরা দেখেছি, এ ধরনের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত হয় না, প্রতিকার মেলে না, এমনকি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয় না। সে কারণে আমরা জোরালো দাবি করে আসছি, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করতে হবে এবং কর্তব্যরত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এটা করা গেলেই যে মিথ্যা প্রচারণাটা চলছে, সেটাকে আমরা যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে পারব।

একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে উগ্রতার বিরুদ্ধে একটা সামাজিক গণপ্রতিরোধ সৃষ্টি করতে হবে। বাংলাদেশে এ ধরনের উগ্রতার চর্চা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অনুমোদিত নয়, সেই বার্তাটি সুস্পষ্টভাবে তাদেরকে দিতে হবে।

জোনায়েদ সাকি.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

বিটিভি ও পুরোনো তিন চ্যানেলে আজ যা দেখতে পারেন

সাত দিনব্যাপী ঈদ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। একক নাটক, চলচ্চিত্র, ধারাবাহিক নাটক, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, গানের অনুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠানসহ নানা বৈচিত্র্যময় আয়োজনে সাজানো হয়েছে চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান। ঈদের চতুর্থ দিন কী কী আয়োজন থাকছে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোয়, তা নিয়ে বিনোদনের বিশেষ এই আয়োজন।

বিটিভি
সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ‘নতুন ভোর’। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আঞ্চলিক গানের অনুষ্ঠান। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ‘পাপেট শো’ (পর্ব-০২)। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে ‘বক্স অফিস’ (পর্ব-০২)। দুপুর ১২টায় ‘শহীদের রক্ত স্বাক্ষর’ (পর্ব-৪)। বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে ‘প্রিয় শিল্পীর প্রিয় গান’। শিল্পী: রিজিয়া পারভীন, আলম আরা মিনু, মুহিন খান, মিমি আলাউদ্দিন, ছন্দা মনি, দিঠি আনোয়ার, জুলি শার্মিলি। বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠান। সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান ‘আগুনঝরা সন্ধ্যা’। ৭টায় ‘ব্যান্ড শো’। রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ‘ইত্যাদি’ (সংকলিত)। ১০টায় বিশেষ নাটক। ১১টা ৫ মিনিটে বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান। শিল্পী: আলম আরা মিনু ও পলাশ।

এটিএন বাংলা
সকাল ৮টায় প্রভাতি অনুষ্ঠান ‘চায়ের চুমুকে’। বেলা ১টা ২৫ মিনিটে ছোটদের ইসলামি অনুষ্ঠান। বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে কমেডি শো ‘হাউস নাম্বার ৪২০’। বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে বিশেষ নাটক ‘বন্ধু তুই আমার’। অভিনয়ে তানভীর, জান্নাত মীম, হোসেন নিরব। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে বিশেষ নাটক ‘ছাত্রী পড়ানো নিষেধ’। অভিনয়ে আরশ খান, সামিরা। রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে নাটক ‘নিয়তি’। অভিনয়ে মুশফিক আর ফারহান, আইশা খান। ১০টা ৩০ মিনিটে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘টিউন উইথ ঐশী’। ১১টায় বিশেষ টেলিফিল্ম ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’। অভিনয়ে জোভান, তটিনী।

চ্যানেল আই
বেলা ২টা ৩০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘ঘোর’। অভিনয়ে আফজাল হোসেন, সাদিয়া ইসলাম মৌ, ইমতিয়াজ বর্ষণ। বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘মেঘবালিকা’। অভিনয়ে অপূর্ব, নাজনীন নীহা। সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ধারাবাহিক ‘মিশন মুন্সিগঞ্জ’। অভিনয়ে আফজাল হোসেন, চঞ্চল চৌধুরী, আশনা হাবিব ভাবনা। ৭টা ৫০ মিনিটে নাটক ‘লাভ মি মোর’। অভিনয়ে তৌসিফ, মারিয়া শান্ত, বহ্নি হাসান, পারসা ইভানা। রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে নাটক ‘ভাগাও ডটকম’। অভিনয়ে আরশ খান, তাসনুভা তিশা।

এনটিভি
সকাল ৮টায় নৃত্যানুষ্ঠান ‘মন মহুয়ার তালে’। বেলা ২টা ৩০ মিনিটে নাটক ‘কাজল ভোমরা’। অভিনয়ে সামিরা খান মাহি, জোনায়েদ বোগদাদী। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ধারাবাহিক ‘রূপবানের প্রেম’। অভিনয়ে তাসনুভা তিশা, সৈয়দ জামান শাওন, রূবাইয়া এশা, কচি খন্দকার। ৭টা ৫৫ মিনিটে একক নাটক ‘মায়া ফুল’। অভিনয়ে ইয়াশ রোহান, আইশা খান। রাত ৯টা ১৫ মিনিটে একক নাটক ‘মুসাফিরখানা’। অভিনয়ে নিলয়, হিমি। ১১টা ৫ মিনিটে একক নাটক ‘নিয়ামত’। অভিনয়ে মুশফিক আর ফারহান, আইশা খান। ১২টা ১ মিনিটে ‘তারুণ্যের গান’। ব্যান্ড: মাদল।

সম্পর্কিত নিবন্ধ