রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে যুদ্ধরত উত্তর কোরিয়ার দুই সেনাকে আটকের দাবি করেছে ইউক্রেন। আটক সেনাদের রাজধানী কিয়েভে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তদন্তকারীরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বলে জানিয়েছে দেশটি।

এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, এই দুই যুদ্ধবন্দী ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা সিকিউরিটি সার্ভিস অব ইউক্রেনের (এসবিইউ) সঙ্গে ‘যোগাযোগ’ করেছিল।

গতকাল শনিবার এক্স পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, রুশ বাহিনীগুলো এবং অন্যান্য উত্তর কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা সাধারণত চলমান যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার জড়িত থাকার প্রমাণ মুছে ফেলতে তাদের আহত সৈনিকদেরও মৃত্যুদণ্ড দিয়ে থাকে।

এসবিইউর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আটক হওয়া উত্তর কোরিয়ার এক সেনার কাছ থেকে কোনো নথিপত্র পাওয়া যায়নি। অন্যজনের কাছে রাশিয়ার সামরিক পরিচয়পত্র ছিল। মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে রুশ সীমান্তঘেঁষা তুভা অঞ্চলের একজনের নামে সেটা করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দুই বন্দীর কেউই ইউক্রেনীয়, ইংরেজি কিংবা রুশ ভাষায় কথা বলতে পারেন না। তাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সময় লাগছে। এক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা দোভাষী দিয়ে সহায়তা করছে।

আরও পড়ুনকুরস্কে ৫ মাসে প্রায় ১৫ হাজার রুশ সেনা নিহত: জেলেনস্কি০৭ জানুয়ারি ২০২৫

এসবিইউ বলছে, আটক হওয়া একজন সেনা দাবি করেছেন, তাঁকে ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে আনা হচ্ছে সেটা তিনি আগে জানতেন না। তাঁকে বলা হয়েছিল, প্রশিক্ষণের জন্য রাশিয়ায় নেওয়া হচ্ছে।

আটক দুজনকেই জেনেভা কনভেনশনের শর্ত মেনে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও নিশ্চিত করেছে এসবিইউ। তবে তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় জানায়নি ইউক্রেন।

এবারই প্রথম ইউক্রেনের গোয়েন্দারা যুদ্ধরত উত্তর কোরীয় সেনাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগ পেয়েছে। তবে এর আগেও কিয়েভের পক্ষ থেকে যুদ্ধে আহত উত্তর কোরিয়ার সেনাদের আটকের কথা বলা হয়েছিল। তবে তাঁরা গুরুতর আহত ছিলেন। আটকের পরপরই মারা যান।

আরও পড়ুনইউক্রেনের আরেকটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর দখল রাশিয়ার০৬ জানুয়ারি ২০২৫

ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা গত মাসে দাবি করেন, কুরস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করা প্রায় ২০০ উত্তর কোরিয়ার সেনা সম্মুখসমরে হয় নিহত, না হয় আহত হয়েছেন।

হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের পক্ষ থেকে গত মাসে নিশ্চিত করা হয় যে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী মূলত পদাতিক অবস্থানে থেকে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সম্মুখ লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে।

আরও পড়ুনরাশিয়ার কুরস্কে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন০৫ জানুয়ারি ২০২৫.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

ইসলামের শত্রু আবু জাহেলের মা তিনি

আবু জাহেলের বাবার নাম হিশাম ইবনে মুগিরা। হিশাম ছিল পৌত্তলিক। মুহাম্মদ (সা.) নবুয়ত লাভের পূর্বেই হিশামের মৃত্যু হয়। আসমা বিনতে মুখাররাবার প্রথম বিয়ে হয়েছিল সেই হিশাম ইবনে মুগিরার সঙ্গে। তাঁদের দুজন ছেলে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। একজন আবু জাহেল, আরেকজন হারিস। (তাবাকাতে ইবনে সাদ: ৮/২০৯)

অর্থাৎ, আসমার দুই ছেলের এক ছেলে ইসলামের অন্যতম শত্রু আবু জাহেল, রাসুল (সা.) যাকে ‘আমার উম্মতের ফেরাউন’ বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ অন্য ছেলে হারিস ইবনে হিশাম ছিলেন রাসুলের সাহাবি। (মুসনাদে আহমাদ: ৬/৩৭৫; তারিখে তাবারি: ১১/৯৭)

হিশাম ইবনে মুগিরা মারা গেলে তাঁকে বিয়ে করেন তাঁর দেবর আবু রাবিআ ইবনে মুগিরা। (তাবাকাতে ইবনে সাদ: ৮/২০৯)

আরও পড়ুনগিবত নিয়ে কোরআন হাদিসে কি আছে২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

তৎকালীন আরবে ভাইয়ের ইন্তেকালের পর বিধবা ভাবিকে বিয়ের প্রচলন ছিল। আসমা বিনতে মুখাররাবা (রা.) ইসলাম গ্রহণ করে রাসুলের সাহাবি হওয়ার মর্যাদালাভ করেন। তাঁর গর্ভের ছেলে ছিল ইসলামের সবচেয়ে বড় শত্রু, তাই তিনি ছেলের সঙ্গে থাকেননি, বরং হিজরত করে মদিনায় চলে যান। ইসলাম গ্রহণ করার কারণে আবু জাহেল অন্য সাহাবিদের ওপর নির্যাতন করলেও তার মাকে নির্যাতন করেছে বলে জানা যায় না।

দ্বিতীয় বিয়েতে আসমার (রা.) গর্ভে দুই ছেলে এবং এক মেয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের একজন হলেন আবদুল্লাহ (রা.), যিনি থাকতেন ইয়েমেনে। তিনি ইয়েমেন থেকে মায়ের জন্য তখনকার যুগের সবচেয়ে ভালো ইয়েমেনি সুগন্ধি পাঠাতেন। মা সুগন্ধি নিজে ব্যবহার করতেন, বিক্রিও করতেন। মদিনার নারীদের কাছে তাঁর সুগন্ধি ছিল প্রসিদ্ধ। নারীরা সেই সুগন্ধি কিনতে আসমার (রা.) বাসায় যেত। (তাবাকাতে ইবনে সাদ: ৮/২০৯)

আরও পড়ুনরাগ নিয়ন্ত্রণ করবেন যেভাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪

আসমা (রা.) ছিলেন একদিকে যেমন ইসলামের ইতিহাসের কুখ্যাত আবু জাহেলের মা, তেমনি বিখ্যাত সাহাবি আইয়্যাশ ইবনে আবি রাবিআ ও হারিস ইবনে হিশামের (রা.)-ও মা। সারা জীবন ইসলামের বিরোধিতা করতে করতে মারা গেলেও আবু জাহেলের মা আসমা, আবু জাহেলের ছেলে ইকরিমা ও মেয়ে জুয়াইরিয়া, আল-হুনফাসহ পরিবারের কয়েকজন ইসলাম গ্রহণ করেন।

আবু জাহেল চেয়েছিল দুনিয়া থেকে ইসলামের আলো নিভিয়ে দিতে। কিন্তু তার ঘরে ইসলামের আলো জ্বলে ওঠে।

আরও পড়ুনএকজন মুসলিমের যে ১০টি কাজ করতে মানা২৯ ডিসেম্বর ২০২৪

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ১৫ চিকিৎসাকর্মী হত্যার ভিডিও প্রকাশ, কী আছে ভিডিওতে
  • খ্রিষ্টানদের সঙ্গে মহানবীর (সা.) শান্তিচুক্তি
  • বাংলাদেশি লেনিন অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় নির্বাচনে লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী
  • দেড় মাস পর ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু
  • একজন মানুষ কখনো অবৈধ হতে পারে না
  • ওয়াসিম-ইমরান পারলে তাসকিন কেন পারবে না, সুজনের প্রশ্ন
  • প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও ছাদে বিয়ের আয়োজন, নানা আলোচনা
  • কালশী ফ্লাইওভারে প্রাইভেটকার-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, ২ তরুণ নিহত
  • স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার হামলায় একজন নিহত
  • ইসলামের শত্রু আবু জাহেলের মা তিনি