Prothomalo:
2025-04-05@09:48:38 GMT

বুনো জামের মায়াভরা বনে

Published: 12th, January 2025 GMT

শীতের পড়ন্ত বিকেলে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় সাঙ্গু নদের পাড়ে এক প্রত্যন্ত এলাকায় তাঁবু গেড়েছিলাম। এক জনমানবহীন বনপথ। কেবল নদের পানির চলার শব্দ ও বুনো প্রাণীদের ডাকাডাকি। এমন নির্জন রাত শেষে কুয়াশাময় শীতের সকালে ডিমভাজি ও খিচুড়ি খেয়ে আমাদের আবার পথচলা।

বনের নদীর পথে কত-না প্রাণবৈচিত্র্য! অচেনা অনেক গাছপালার সমাহার। বুনো ফুলের ঘ্রাণ, পাখির গান, নদীর জলে ভাসা অচেনা বুনো ফুলের রং দেখে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরণ্যক উপন্যাসের জগতে আছি বলে মনে হলো। এখানে হারিয়ে গেলে আমাদের খুঁজে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। গভীর বন।

সেদিন সকালে কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পরে নদীর তীরে দেখা হলো এক শুভ্র রঙের জাম ফুলের সঙ্গে। একটা মায়াবী টান তার রঙে ও গাছের পাতায়। মনে হলো এ কোন মায়াভরা বুনো জামের বনে এলাম। ফুলগুলো দেখতে আমাদের চিরচেনা জামরুল ফুলের মতো। কিন্তু এটি বৃক্ষ নয়, পাতাও জামরুলের মতো চ্যাপটা ও বড় নয়। তবে ভেবেছি, কোনো বুনো জাম হবে। আমাদের পাহাড়ি বনে অনেক প্রজাতির জাম আছে। এ গাছের পাতা দেখে মনে হয়েছিল, সিলেটের জাফলংয়ে ডাউকি নদীর তীরে একবার দেখেছি।

সাঙ্গু নদের দুই তীরে লম্বা সারিতে গাছগুলো। প্রাকৃতিকভাবেই তারা সারি বেঁধে জন্মেছে। অনেকটা ঝোপালো গুল্ম। প্রতিটি উদ্ভিদেই ফুল। ফুল সুগন্ধী। ফুলে মৌমাছি আসছে। ফুলের ও গাছের ছবি তুলি। ঢাকায় গিয়ে বইপত্র ঘেঁটে বৈজ্ঞানিক পরিচিত জানতে চেষ্টা করি। পরে একটি জার্নালে আর্টিকেল পড়ে উদ্ভিদটি সম্পর্কে জানাতে পারি। এটির বৈজ্ঞানিক নাম Syzygium polypetalum। খুব কম পরিচিত লিথোফাইটিক ও রিপারিয়ান (পাথুরে ও নদীর তীরের পরিবেশে জন্মে) বিরল উদ্ভিদ। এটি ভারতের মেঘালয়, মিজোরাম, আসাম, ত্রিপুরা; বাংলাদেশের বান্দরবান, সিলেট এবং মিয়ানমারের নদীতীরের শিলাময় পরিবেশে পাওয়া যায় কেবল। প্রধানত নদীর তীর বরাবর শিলার ফাটলের মধ্যে জন্মে। ফুল ফোটে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত। ফল ধরে মে মাস থেকে।

দোলা জামের ফুল.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

২৫ বছর পর বায়ার্ন ছাড়ার ঘোষণা টমাস মুলারের

পেশাদার ফুটবলে মাত্র দুটি জার্সি গায়ে চড়িয়েছেন টমাস মুলার। একটি জার্মানির, আরেকটি বায়ার্ন মিউনিখের। গত বছর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া মুলার এবার বায়ার্নকেও বিদায় জানানোর পথে। ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জানিয়েছেন, চলতি মৌসুম শেষেই বায়ার্ন ছাড়তে চলেছেন তিনি। এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বায়ার্ন কর্তৃপক্ষও।

ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে এক ক্লাবে সবচেয়ে বেশি সময় খেলা চালিয়ে যাওয়ার রেকর্ডটা মুলারের। ২০০০ সালে বায়ার্ন একাডেমিতে যোগ দেওয়া মুলার ক্লাবটির সঙ্গে আছেন টানা ২৫ বছর।

২০২৪-২৫ মৌসুম শেষে বায়ার্ন থেকে বিদায়ের খবর জানিয়ে ক্লাবের বিবৃতিতে নিজের অনুভূতি তুলে ধরেছেন মুলার। মাত্র ১০ বছর বয়স থেকে বায়ার্নের সঙ্গে বেড়ে ওঠার প্রসঙ্গ তুলে বিশ্বকাপজয়ী এই ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘আজকের দিনটা আমার অন্য সব দিনের মতো নয়। বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে আমার ২৫ বছরের পথচলা এই গ্রীষ্মে শেষ হতে চলেছে। এটা এক অবিশ্বাস্য যাত্রা ছিল, যা অনন্য সব অভিজ্ঞতা, দুর্দান্ত সব লড়াই এবং অবিস্মরণীয় সব জয়ে ভরা।’

জার্মানির হয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপ জেতা বায়ার্নের সিনিয়র দলের হয়ে প্রথম খেলেন ২০০৮-০৯ মৌসুমে। গত ১৭ মৌসুমে বায়ার্নের যত অর্জন, সবকিছুর সঙ্গে ছিলেন এই ফরোয়ার্ড। এ সময়ে মুলার বুন্দেসলিগায় ১৫০টি সহ ৭৪৩ ম্যাচে মোট ২৪৭ গোল করেছেন।

বায়ার্নের হয়ে জিতেছেন ১২টি বুন্দেসলিগা, ৬টি জার্মান কাপ, ৮টি জার্মান সুপার কাপ, ২টি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ২টি উয়েফা সুপার কাপ এবং ২টি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ।

মুলারের পর ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এক ক্লাবে সবচেয়ে লম্বা সময় খেলা চালিয়ে যাওয়া খেলোয়াড় আতলেতিকো মাদ্রিদের কোকে, যিনি ক্লাবটিতে আছেন ২০০৯ থেকে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ