ট্রাম্পের ফৌজদারি দুই মামলার বিশেষ কৌঁসুলি পদত্যাগ করলেন
Published: 12th, January 2025 GMT
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথ। দেশটির হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি মামলা লড়ছিলেন তিনি। চলতি মাসের শেষের দিকে ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই বিচার বিভাগ ছাড়লেন স্মিথ।
আদালতে গতকাল শনিবার দাখিল করা একটি নথিতে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার জ্যাক স্মিথ বিচার বিভাগ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
আরও পড়ুনট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের স্বীকৃতি দিল মার্কিন কংগ্রেস০৬ জানুয়ারি ২০২৫বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজ গত নভেম্বরে এক প্রতিবেদনে জানায়, নিজের কাজগুলো শেষ হওয়ার পর জ্যাক স্মিথ বিচার বিভাগ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। ট্রাম্পের গোপন নথিসংক্রান্ত মামলায় স্মিথের করা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই তাঁর পদ ছাড়ার কথা জানা গেল।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা মার্কিন বিচার বিভাগের দুটি মামলার বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে ২০২২ সালে নিয়োগ পান জ্যাক স্মিথ। ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়া ও সরকারি গোপন নথি সরানোর অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওই মামলা দুটি করা হয়েছিল।
দুটি মামলাতেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও ট্রাম্প বরাবর অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। দাবি করেছেন, মামলাগুলো রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আরও পড়ুনপর্ন তারকাকে ঘুষের মামলায় দণ্ড হিসেবে ‘শর্তহীন মুক্তি’ পেলেন ট্রাম্প১০ জানুয়ারি ২০২৫গত বছর ট্রাম্প আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর মামলা দুটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। কৌঁসুলিরা লিখিতভাবে জানান, বিচার বিভাগের নিয়মকানুনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নভেম্বরে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্যাক স্মিথ পদত্যাগ করতে পারেন। ট্রাম্প বা তাঁর নতুন প্রশাসনের অ্যাটর্নি জেনারেল কর্তৃক বরখাস্ত হওয়ার আগেই পদত্যাগের সুযোগ পাবেন তিনি।
ট্রাম্প একসময় বলেছিলেন, হোয়াইট হাউসে বসার ‘দুই সেকেন্ডের মধ্যে’ জ্যাক স্মিথকে চাকরিচ্যুত করবেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় ফিরছেন ট্রাম্প। এর মধ্যেই পদত্যাগের কথা জানালেন স্মিথ।
আরও পড়ুনলেখিকা জেন ক্যারলকে যৌন নির্যাতনের মামলার আপিলে হারলেন ট্রাম্প৩১ ডিসেম্বর ২০২৪আরও পড়ুনযুক্তরাষ্ট্রে টিকটক নিষিদ্ধের আইন স্থগিত রাখতে সুপ্রিম কোর্টকে অনুরোধ ট্রাম্পের২৮ ডিসেম্বর ২০২৪.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
ট্রাম্পের শুল্ক বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার পোশাক ব্যবসায়ীদের ওপর বড় আঘাত
কোভিড, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ একটি শিল্পকে কেন্দ্র করে নিজেদের সমৃদ্ধির প্রত্যাশা জিইয়ে রেখেছিল। শিল্পটি তৈরি পোশাক, যার প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লিখিত ঝড়ঝাপটার পরে এখন এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কের ঘোষণা।
ট্রাম্প শ্রীলঙ্কার ওপর ৪৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। আর বাংলাদেশের ওপর আরোপ করেছেন ৩৭ শতাংশ শুল্ক। এত বেশি নতুন শুল্কের ধাক্কায় দেশ দুটির ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা তা প্রশমিত করতে চেষ্টা করছেন। উভয় দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের শঙ্কা, তাঁরা হয়তো আর বড় উৎপাদনকারী শক্তিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠবেন না। তাঁদের ক্রয়াদেশ কম শুল্কযুক্ত ও বড় শিল্প শক্তিসম্পন্ন দেশগুলোতে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে।
শ্রীলঙ্কার জয়েন্ট অ্যাপারেল অ্যাসোসিয়েশন ফোরামের পরামর্শক তুলি কুরে বলেন, ‘আমাদের শোকবার্তা লিখতে হবে। ৪৪ শতাংশ কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়।’
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কের ধাক্কা বিশ্বের পোশাকশিল্পের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দেশগুলোর জন্য অনেক বড়। সমতা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান উইলিয়াম ব্লেয়ারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত তৈরি পোশাকের প্রায় ৮৫ শতাংশ উৎপাদন করে, সেসব দেশের ওপর গড়ে ৩২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, পোশাক প্রস্তুতকারী দেশগুলোকে নিশানা করার মধ্য দিয়ে শুধু ওই সব দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে না, এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর ওপরও চাপ তৈরি হবে। উইলিয়াম ব্লেয়ারের মতে, পণ্যের খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত এতে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদেরই জন্যই সমস্যা হতে পারে।
আরও পড়ুনট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কি পিছিয়ে পড়বে৯ ঘণ্টা আগেশ্রীলঙ্কার কলম্বোর কাছে কাতুনায়াকেতে একটি পোশাক কারখানায় কর্মীরা পোশাক সেলাই করছেন