Prothomalo:
2025-04-03@20:02:01 GMT

কাটা হচ্ছে হাজারো গাছ

Published: 11th, January 2025 GMT

উন্নয়নের কারণে গাছ কাটতেই হবে, এটিই যেন এ দেশের নিয়ম হয়ে গেছে। গাছ না কেটে বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে কীভাবে উন্নয়ন করতে হবে, সেই বিবেচনাবোধ কখন আমাদের নীতিনির্ধারক ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজ করবে, আমরা জানি না। দুই বছর ধরে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে গাছ কাটা নিয়ে বেশ শোরগোল উঠেছিল। কিন্তু কোনো প্রতিবাদই দিন শেষে কাজে আসছে না। যার কারণে আমরা দেখছি বান্দরবানে একটি সড়ক সম্প্রসারণের কাজে কেটে ফেলা হচ্ছে হাজারেরও বেশি গাছ। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

বান্দরবান সদর উপজেলার বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়ক থেকে শুরু হয়ে রেইচা-গোয়ালিয়াখোলা হয়ে কেয়ামলং ও গুংগুরু সংযোগ সড়কে গিয়ে মিলেছে এ সড়ক। দুই বছর আগেও সাত কিলোমিটারের সড়কটির দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সমারোহে সবুজ বেষ্টনী মোড়ানো ছিল। কিন্তু রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য এসব গাছ কাটা শুরু হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান, সড়ক সম্প্রসারণের কথা বলে সড়কের দুপাশের পাঁচ শতাধিক গাছ ইতিমধ্যে কাটা হয়েছে। কিছু গাছের গুঁড়ি এক্সকাভেটর দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়েছে, যেন গাছ কাটার কোনো চিহ্ন পাওয়া না যায়। এ নিয়ে ডেইলি স্টার বাংলা অনলাইন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

২০১৮ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নোমানের সই করা নিলাম ও গাছ কাটার অনুমতিপত্র অনুযায়ী সড়কটির সম্প্রসারণের জন্য ৬৬৬টি মেহগনিগাছ, ৩৩৪টি শিশুগাছসহ মোট এক হাজার গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। ঠিকাদার ২৮০টি গাছ কেটে ফেলার পর সে কাজে বাধা দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, এলজিইডি ও বন বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি।

 বান্দরবান সদর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদের বক্তব্য, রাস্তাটি স্থানীয় প্রশাসনের অধীন। বন বিভাগ এটার অংশীজন নয়। রাস্তার দুই পাশে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা চলমান। সে মামলায় বন বিভাগও আসামি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী পারভেজ সারোয়ার হোসেনের বক্তব্য, বান্দরবান এলজিইডি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাস্তাটি সম্প্রসারণের প্রকল্প হাতে নেয়। পরিবেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনো কাজ এলজিইডি করবে না এবং তারা কাউকে গাছ কাটা কিংবা পরিবেশ ধ্বংসের জন্য সুপারিশ বা অনুমতি দেয় না।

রাস্তার দুই পাশে গাছ কাটা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান, আবার গাছ কাটার অনুমতিও এলজিইডি দেয় না; তাহলে রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য গাছগুলো কীভাবে কাটা হচ্ছে? কারা ঠিকাদারকে এ গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে? ওই সড়কে ৭০–৮০ বছর থেকে শতবর্ষী অনেক গাছ আছে। এসব গাছ কোনোভাবেই কাটার সুযোগ নেই। গাছ কেটে এভাবে সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তাও যাচাই করা হোক।

.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

দেশে বছরে দেড় লাখের বেশি শিশুর মৃত্যু

বছরে দেড় লাখের বেশি শিশুর মৃত্যুতে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ গুরুতর চ্যালেঞ্জে পড়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ এবং ডব্লিউএইচও। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইউনাইটেড নেশন্স ইন্টার-এজেন্সি গ্রুপ ফর চাইল্ড মরটালিটি এস্টিমেশনের ২০২৪ সালের দুটি প্রতিবেদনের একটিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ১ লাখের বেশি শিশু তাদের পঞ্চম জন্মদিন পূর্ণ করার আগে মারা গেছে। তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়েছে আবার বয়স ২৮ দিনের মধ্যে। দ্বিতীয় প্রতিবেদনে ওই বছর ৬৩ হাজারের বেশি মৃত শিশু প্রসবের তথ্য রয়েছে। প্রতিবেদন দুটির হিসাবে প্রতি ৪১ শিশু জন্মের ক্ষেত্রে একটি মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। 

ইউনিসেফ এবং ডব্লিউএইচও বলেছে, ১৯৯০ সাল থেকে মা ও শিশু স্বাস্থ্যে বাংলাদেশের অর্জন প্রশংসনীয়। তবে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত যত্নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মা ও শিশুর প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমাতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার তাগিদ দিয়েছে তারা। এসডিজির লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশকে প্রতিবছর বাড়তি ২৮ হাজার নবজাতককে বাঁচাতে হবে। এ জন্য প্রসূতি ও নবজাতকের উন্নত যত্ন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ সেবাদাতার উপস্থিতিতে প্রসব,  গর্ভধারণ, প্রসবকালীন ও প্রসবোত্তর সেবার মান উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থা দুটি।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের ওআইসি রিপ্রেজেন্টেটিভস ফারুক আদ্রিয়ান দুমুন বলেন, ‘অপরিণত জন্ম, সেপসিস ও নিউমোনিয়া সংক্রমণের মতো প্রসব জটিলতায় বাংলাদেশে প্রতিবছর এক লাখের বেশি নবজাতক মারা যায়। অথচ এসব জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগে অগ্রাধিকার, সব পর্যায়ে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী বিশেষ করে ধাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও সঠিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা গেলে লাখ লাখ শিশু ও মাকে বাঁচানো সম্ভব।’ 

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে ইউনিসেফ প্রসূতি ও শিশুর মৃত্যুরোধে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বাংলাদেশে ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহামেদ বলেন, বিগত দশকগুলোতে প্রসূতি ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। শিশু মৃত্যু ও মৃত শিশুর জন্ম প্রতিরোধে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ