মাঝদুপুরে রোদের উঁকিঝুঁকি বেড়েছে। কুয়াশার দাপটও একটু কম। টানা চার দিনের তীব্র শীতের কষ্ট অন্তত দিনের বেলা কিছুটা কমেছে। তবে বিকেলের পর থেকে শীতের দাপট খুব একটা কমেনি। গতকাল শুক্রবারও দেশের ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় কনকনে শীতের বাতাস ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আজ শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে শীতের বাতাস তীব্র থাকতে পারে। সেই সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে ওই ১০ জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে। সামগ্রিকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। দিনের রোদের দাপটও বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আজ তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও শীত বেশি থাকতে পারে। আজ সকাল ও রাতে কুয়াশা বেড়ে যেতে পারে। এতে কোথাও কোথাও রোদ বাড়লেও শীতের অনুভূতি বেশি থাকতে পারে। কুয়াশার দাপটে আজ বিকেল থেকে স্থল, নৌ ও আকাশপথে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ জেবুন্নেছা প্রথম আলোকে বলেন, আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহ চলার পর আগামীকাল রোববার তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। এতে আগামী কয়েক দিন শীত কমতে পারে।

.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

বাংলাদেশি ভেবে বিএসএফের গুলি, ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমন্ডল সীমান্তের ৯২৯ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের ৩ নম্বর সাব পিলারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে ভারতের ভূখণ্ডে মরাকুটি (ভোরাম পয়োস্তি) এলাকায় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ দেখেন বাংলাদেশিরা। ৪ ঘণ্টা ধরে সেখানে পড়েছিল ভারতীয় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ। পরে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ নিয়ে ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

নিহত যুবকের নাম জাহানুর আলম (২৪)। তিনি ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার গিদালদহ এলাকার মরাকুটি ভোরাম পয়োস্তি গ্রামের কবিদুল ইসলামের ছেলে।

সীমান্তবাসীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসাসহ গরু পারাপারে জড়িত ছিলেন তিনি।

সীমান্তে বসবাসকারী সায়েদ আলী ও হয়রত আলী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে উভয় দেশের একদল চোরাকারবারী ওই সীমান্ত দিয়ে গাঁজা ও গরু নিয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করে। এ সময় ভারতীয় ভারবান্দা ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে ভারতীয় চোরাকারবারী জাহানুর গুলিবৃদ্ধ হয়। সেখানে পড়ে থাকা অবস্থায় অনেকবার চিৎকার করলেও সহযোগীরা তাকে উদ্ধার না করায় ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। গুলির শব্দ পেয়ে বাকি চোরাকারবারীরা পালিয়ে যান।

এ দিকে নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির পক্ষে গোরকমন্ডল ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফিরোজ এবং বিএসএফের পক্ষে ৩ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের অধীন ভারবান্দা গিদালদহ ক্যাম্পের কমান্ডার গিরিশ চন্দ্র নেতৃত্ব দেন। পতাকা বৈঠকের পর সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ নিয়ে যায় বিএসএফ।

এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, বিএসএফের কাছে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়- ভোরের দিকে একদল ভারতীয় নাগরিক টহলরত বিএসএফ পোস্টে হামলা চালায়। তখন আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে এক ভারতীয় হামলাকারী নিহত হয়। বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীন। এর সঙ্গে বাংলাদেশ বা বিজিবির কোনও সমৃক্ততা নেই। তারপরও সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ